ঢাবির খাবারে মিলল কাঁকড়া, পাওয়া যায় আরও যা...
বিশেষ অফার!
আপনি একটি বিশেষ অফার পেতে যাচ্ছেন। অটোমেটিক রিডাইরেক্ট হতে:
সেকেন্ড অপেক্ষা করুন
অথবা এখানে ক্লিক করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলের ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ক্যান্টিন থেকে মৃত কাঁকড়া ও পচা খাবার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদ ও কয়েকটি সংগঠন যৌথভাবে এক অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সলিমুল্লাহ হল, ফজলুল হক হল এবং মুহসীন হলের ক্যান্টিনে তারা অভিযান চালান। অভিযানকালে তারা দেখতে পান, ক্যান্টিনের ফ্রিজে মৃত কাঁকড়া রাখা হয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছে।
ছাত্র নেতার বক্তব্য
"আমরা অভিযান চালিয়ে দেখতে পাই, ক্যান্টিনে মৃত কাঁকড়া রাখা হয়েছে। এছাড়া পচা মাংস, দুধ ও অন্যান্য খাবারও পাওয়া যায়। এটা খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।"
অভিযানে অংশ নেওয়া ছাত্ররা জানান, তারা ক্যান্টিনের রান্নাঘরে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে। কাঁকড়াগুলো মৃত অবস্থায় ফ্রিজে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া পচা মাংস, দুধ ও অন্যান্য খাবারদ্রব্যও পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, "আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। অভিযুক্ত ক্যান্টিনগুলোকে ক্লোজ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে ছাত্ররা বলছেন, এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্যান্টিনে অস্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি। তারা দাবি করছেন, ক্যান্টিনগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক জানান, তারা নিয়মিত ক্যান্টিনগুলো পরিদর্শন করেন। কিন্তু এতদিন এমন কিছু চোখে পড়েনি। তিনি বলেন, "আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। যারা এ ধরনের কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, তাদের টাকায় এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে। তারা দাবি করছেন, ক্যান্টিনগুলোতে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ক্যান্টিনগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করবেন। এতে খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।


0 Comments